রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডীনস্ অ্যাওয়ার্ড- ২০২২’ পেল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের প্রতিচী

39

ডীনস্ অ্যাওয়ার্ড- ২০২২ এর পিছনের গল্পটি শুনতে চাই !

আসলে, দীর্ঘ ১৮২৫ টা দিনের প্রতীচীর একটু একটু করে বেড়ে ওঠার গল্প। ২০১৭ সালে বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি ডিপার্টমেন্টে, সত্যি কথা বলতে একেবারে শূণ্য আশা আর অনুভূতি নিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। আজীবন নিজেকে নিয়ে মাইনাস কনফিডেন্সে ভোগা আমি শেষবারের মতো একটু মাথা তুলে বাঁচার চেষ্টা করেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে। ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন, লক্ষী মেয়ে হওয়ার চেষ্টা করা, মানুষের মন জুগিয়ে চলা এসব কিছু মাথা থেকে একেবারে ঝেড়ে ফেলে স্বতন্ত্রভাবে নিজের জীবনটা উপভোগ করার চেষ্টা শুরু করি। লক্ষ্য রেজাল্টের দিকে ছিলোনা, বরং, পরিচিত গন্ডির বাইরে গিয়ে এক্সপ্লোরিং এর দিকে ছিলো। ক্লাবিং করতাম, ছবি আঁকা, আবৃত্তি, উপস্থাপনা, গান কোনোকিছুই বাদ দেইনি। গোগ্রাসে বই আর মুভি-সিরিজও গিলেছি প্রায় প্রতিদিন। আমি বলবো না সবদিক সামলে রেখে সেরা হবার চেষ্টা করেছি। আমি শুধু একটু ভালো থাকতে চেয়েছি, স্বাধীন হতে চেয়েছি, নিজেকে চিনতে চেয়েছি, নিজেকে প্রাধান্য দিয়েছি। এই ভালো থাকতে চেষ্টা করাটাই আমার জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। টানা ২ মাসের ফাইনাল এক্সামগুলোতে শক্ত থাকতে সাহায্য করেছে।  আমার এই প্রাপ্তি উৎসর্গ করছি আমার আম্মুকে, যে আমাকে শক্ত হতে শিখিয়েছে; আমার বাবাকে, যে এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে আমার পায়ে শেকল পরায়নি, বরং উড়তে শিখিয়েছে; আমার নানুকে, যে কোনোদিনও আমার উপর থেকে বিশ্বাস হারায়নি, আমার প্রতিটা অর্জনকে উদযাপন করেছে। সবশেষে ইউরির কথা বলতেই হয়, যে আমার হাত ধরতে কোনোদিন দ্বিধা করেনি। আসলে আরো অসংখ্য মানুষকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত। আমার সুবৃহৎ পরিবার, বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরা, বন্ধু-বান্ধব-সবার কাছে আমি ঋণী।

আপনার বেড়ে ওঠা?

আমার জন্ম ১৯৯৭ সালে গাইবান্ধা জেলায়। গাইবান্ধা আমাদের পৈতৃক নিবাস। আমার বাবার বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এবং মা’র বাড়ি পলাশবাড়ি উপজেলায়। এই পলাশবাড়ি উপজেলার ইউনিক কিন্ডার্গার্টেনে আমি ভর্তি হই এবং সেখানে ২য় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষে ২০০৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে ৩য় শ্রেণিতে ভর্তি হই। এর পর থেকে বাকি শিক্ষাজীবন আমার রাজশাহীতেই কেটেছে।

বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল গুলো জানতে চাচ্ছি!


এই বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে এস.এস.সি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ (গোল্ডেন) পেয়ে উত্তীর্ণ হই। এর পরে রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রী কলেজ থেকে ২০১৬ সালে জিপিএ ৫ (গোল্ডেন) পেয়ে ২০১৬-১৭ সেশনে ভর্তি হই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগে। প্রথম বর্ষে আমার জিপিএ ৩.৮২ থাকলেও পরবর্তী বর্ষগুলোতে ক্রমান্বয়ে ৩.৯৫, ৩.৯২, এবং শেষ বর্ষে ৪.০০ অর্জন করি এবং অনার্সে সিজিপিএ দাঁড়ায় ৩.৯৩। সম্প্রতি আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডীনস্ অ্যাওয়ার্ড- ২০২২’ এর জন্য মনোনয়ন পাই। গত ০৭.০৬.২০২৩ তারিখে আমাদের বিভাগের আরও ছয় জনের সাথে আমি এই পুরষ্কার গ্রহণ করি।

অন্য কোন বৃত্তি পেয়েছেন?


B.Sc. ডিগ্রী লাভের পরপরই একই বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি হই এবং একইসাথে বিভাগের Laboratory of Environmental Health Sciences এ আমার গবেষণার হাতেখড়ি হয়। মাস্টার্স কোর্সের অন্তর্ভুক্ত থিসিস এর জন্য ২০২২ সালে National Science and Technology (NST) Fellowship – এর জন্য আবেদন করি। আমার থিসিসের বিষয় হচ্ছে ‘Exploring the association between chronic arsenic exposure and circulating leptin through a cross-sectional study”. আমার গবেষণা প্রস্তাবপত্রটি NST Fellowship-2022 এর জন্য মনোনীত হয়েছে৷ বর্তমানে আমি আমার থিসিসের টপিকটি নিয়ে গবেষণারত আছি। ইতোমধ্যেই ‘Cleodendrum viscosum leaves attenuate lead-induced neurotoxicity through upregulation of BDNF-Akt-Nrf2 pathway in mice” শীর্ষক আমাদের একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এখানে আমি কো-অথর হিসেবে আছি। গবেষণা প্রবন্ধটি প্রখ্যাত Elsevier এর Journal of Ethnopharmacology (IF 5.195) তে প্রকাশিত হয়েছে। 

পড়াশুনা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?

বিভাগের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান সমিতিতে ‘সাংস্কৃতিক সম্পাদক’ পদে ২০১৭-২০১৮ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলাম।  ২০১৭ সালে ১ম বর্ষে পড়াকালীন সময়ে BFDF কর্তৃক আয়োজিত Rajshahi University Freshers’ Debate Championship এ আমার দল রানার-আপ হয়।  ২০১৮ সালে (২য় বর্ষ) American Society for Microbiology, International Student chapter of University of Rajshahi কর্তৃক আয়োজিত রিভিউ সাবমিশন কম্পিটিশনে প্রথম হই। ২০১৮-২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রান বিজ্ঞান সমিতির ‘মহিলা সম্পাদক’ পদে কাজ করেছি।  ২০২০ (৪র্থ বর্ষ) এ Biochemistry and Molechular Biology English Language club এর General Secretary এবং পরবর্তীতে একই ক্লাবের Vice President পদে নিযুক্ত হই। এখন এই ক্লাবে VP হিসেবে আছি।

 

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here